।। ভৌতিক বট ।।
অনেক চেষ্টা করেও আজও ভুলতে পারিনি সেই জৈষ্ঠ্য মাসের বিশেষ সন্ধ্যা টার কথা । আমার এক পরিচিত দাদার কন্যার আজ মুখে ভাত তাই নেমন্তন্ন দিয়েছে যেতেই হবে। আমারই এক ছাত্রের মোটরসাইকেলে চেপে রওনা দিলাম নেমন্তন্ন বাড়িতে। গ্রামটার নাম কুমুদপুর , সেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে ফিরতে রাত হয়ে যাবে তাই সবার সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে একটু মিষ্টি আর চা পান করেই বেরিয়ে পড়ব বাড়ির দিকে তেমনি ভেবেছিলাম।সবার সাথে দীর্ঘদিন পরে দেখা সাক্ষাৎ বেশ ভালই লাগছিল। গল্পগুজব হৈ হৈ রৈ রৈ এর মধ্যে কোথা থেকে যে ঘড়ির কাঁটা কোথায় গিয়ে পৌঁছল সেটা আর খেয়াল নেই। তখন বেশ রাত হয়ে গেছে তখন আমি ভাবলাম যে না আর দেরি করা ঠিক হবে না এরপর রওনা হওয়া দরকার। তাই আর দেরি না করে বাড়ির দিকে রওনা হলাম।অনেকদিন আগেই বিজয়ের কাছে এখানকার এক রহস্যময় বটগাছের গল্প শুনেছিলাম। তাই এবার বাড়ি যাওয়ার সময় সেটার অবস্থান জেনে নিয়ে একবার দেখেই মাঠ।ওদের গ্রামের রাস্তা ছেড়ে মাঠে যাবার সমতল রাস্তায় যখন নামলাম তখন বেশ ঘুটঘুটে অন্ধকার। মাত্র দুই এক কিলোমিটার পথ। একটা গ্রাম পড়ল সেটা পার হতে মাঠের দিকে হনহন করে একটা লোক রাস্তায় উঠল যাক ভালই হল নির্জন পথে একটা সঙ্গী পাওয়া গেল । ও দাদা দাঁড়াও দাঁড়াও এক সঙ্গে গল্প করতে করতে যাওয়া যাক। কিন্তু কে আর কার কথা শোনে। হন হন করে যেমন চলছে তেমনি চলতে লাগল।
আকাশে হালকা তারা ফুটেছে জোৎস্না রাত। গ্রামের মাঠ ঘাট , গাছপালা,ঘর বাড়ি সবই কেমন যেন রহস্যময় হয়ে উঠেছে এমনকি সামনে জলজ্যান্ত মানুষটাও যেন রহস্যময় । উত্তরে যাচ্ছে তো যাচ্ছেই পথ যেন শেষ হয় না। আধ ঘন্টা হয়ে গেল অথচ সেই ভৌতিক বট টির সন্ধান নেই। এখন ভিতর ভিতর কেমন যেন ভয় লাগছে। ভুল রাস্তায় চলে যাচ্ছি না তো। সামনে একটা চৌমাথা পড়তেই সেখানে দাঁড়ালাম লোকটাও থেমেছে তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম দাদা ঠিক রাস্তা ধরে যাচ্ছি তো আর কতদূর মুখে তার কোন উত্তর নেই ইশারায় হাত তুলে দেখালো — ঐতো সামনে। তারপর আবার তাকে লক্ষ্য করেই হাঁটছি সে গতি বাড়াতে আমিও গতি বাড়াচ্ছি আরো কিছুটা যাওয়ার পর আবারো একটা চৌমাথা পড়ল । সামনের লোকটা সোজা না গিয়ে এবার দেখি মাঠের পথ ধরল তখন আমার মনে সন্দেহ হলো । মাঠের দিকে যাচ্ছে দেখে তখন আমি ভাবলাম তুমি যেই হও বাপু তোমার পেছনে যাচ্ছি না আর। তখন আমি গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলাম । পিছন থেকে কে যেন একটা শব্দ করে ঝড়ের গতিতে গায়ে ঢুকলো দেখি একজন সাইকেল আরোহী। তখন আমি ওই সাইকেল আরোহীকে জিজ্ঞেস করলাম — দাদা ভূতো বট টা আর কতদূর একটু বলতে পারেন? তিনি আঙ্গুল তুলে দেখালেন ওইতো সামনেই। তখন মনে একটু শান্তি হলো যে তাহলে ঠিক পথে এসেছি। শুনশান রাস্তা বেশ গা শিরশির করছে। পিছনে তাকিয়ে দেখি এতো সেই রহস্যময় লোকটা।
কুকুরের ঘেউ ঘেউ ডাক যেন কানের পর্দা ফাটিয়ে দিচ্ছে । যাই হোক আর ভয় নেই তাহলে গ্রামে যখন ঢুকে পড়েছি । সেইসময় সেই লোকটি দেখি হাঁটতে হাঁটতে একরাশ ধুলো উড়িয়ে এগিয়ে গেল সামনে একটা গাছের তলায়। তারপরে দেখি গাছের মাথা থেকে ঝটপট ডানা ঝাপটিয়ে মাথার উপরে ঘুরপাক খেতে লাগল দু জোড়া শুকুন। তার সাথে আবার পেঁচার বিদঘুটে ডাক। সত্যিই দুরু দুরু করে উঠলো বুকটা। তখন মনে হলো বটগাছ দেখার কোন ইচ্ছা নেই আর এরপর রাস্তায় উঠে বাস পেলেই হল।
তখন আমি আমার পকেট থেকে টর্চ লাইট টা বার করে ঝুলে থাকা বটগাছটার ডালে যা দেখলাম তাতে আমার দেহের সব শক্তি যেন শেষ হয়ে গেল । থরথর করে কেঁপে উঠলো হাত পা সব । এবার মনে হচ্ছে কেন ভুল করলাম এই রহস্যময় গাছ টা না দেখলেই ভালো হতো । টর্চ এর আলো গাছে পড়তেই মা দেখলাম তা আর বলার নয় দেখলাম গাছের ডালে ঝুলছে ফাঁস লাগিয়ে এক গৃহবধূ । চোখ দুটো তার যেন একদম ঠেলে বেরিয়ে আসছে । সেখান থেকে যে পালাব আমার পা দুটো যেন আর এগোচ্ছে না । আমার গোটা শরীর দিয়ে ঘাম ছুটতে শুরু করেছে।
## ভৌতিক বট(প্রথম পর্ব)##



Comments