আমার জীবনের ভয়ানক কিছু গল্প ভূতের

।।  নিশির ডাক।।
আমার জীবনের ভয়ানক কিছু গল্প ভূতের
আমি বাবার মুখ থেকে পুরোনো দিনের সত্যিকারের ঘটনা অনেক শুনেছি কিন্তু আজ যেটা শুনলাম সেটা শুনে বেশ কিছুটা হতভম্ব হলাম।
আমার জীবনের ভয়ানক কিছু গল্প ভূতের

  আজ থেকে প্রায় বছর কুড়ির আগের ঘটনা এটি।বাবারা সব বন্ধুরা মিলে তখন নাকি গ্ৰামে ভোরবেলায় দল বেঁধে মাছ ধরতে যেত পুকুরে। আগেকার দিনে গ্ৰাম বাংলাতে ছেলেরা নাকি এই ভাবেই মজা করত। সেই মতো যে দিন ভোরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য ঠিক হত তার আগেরদিন রাতে  একজন কে দায়িত্ব দেওয়া হতো যে সে সেই দিন সবাইকে ঘুম ভাঙ্গিয়ে নিয়ে যাবে।
   একদিন সব বন্ধুরা মিলে সন্ধ্যায় আড্ডা দিচ্ছে ঠিক তখন বাবার এক বন্ধু রুবুল বলল চল ভাই আজ বহু দিন পর সবাই একসাথে হয়েছি আজ ভোরে মাছ ধরতে যাই। অমনি দলের সবাই লাফিয়ে উঠে হুল্লোড় দিয়ে বলল হ্যঁ হ্যঁ হবে হবে। দলের মধ্যে দু একজন একটু ঘুম কাতুরে আছে তারা প্রথম প্রথম একটু গুমুস গামুস করছিল ঠিকই কিন্তু পরে তারাও রাজি হয়ে গেল যাওয়ার জন্য। আসলে তারা তো জানে না গিয়েও রক্ষা নেই যা সব বন্ধু না গেলে জোর করে চ্যাংতোলা করে তুলে নিয়ে যাবে বাড়ি থেকে তার থেকে রাজি হয়ে যাওয়াই ভালো।
   দলের মধ্যে রুবুল কে দায়িত্ব দেওয়া হল সকল কে  ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। দলের সকলের মধ্যে সেই নাকি সাহসী, ডাকাবুকো। ঠিক হল ভোর ৪ টা নাগাদ যাবে সবাই পুকুর পাড়ে মাছ ধরতে। মোট ৪ জন যাবে আর রুবুল কাকু  বাকি তিন জনকে ডেকে  নিয়ে যাবে।
     রুবুল কাকু দের বাড়ি থেকে আসতে প্রথম বাড়ি পরে  আমার বাবার বাড়ি তার পর সুরেশ কাকুর ও তারপর দীপক কাকুর। রাত্রিবেলায় বাবারা সবাই ঘুমোচ্ছে হঠাৎ রাত ৩ টের সময় রুবুল কাকু বাবা কে ডাক দিচ্ছে। আমার ঠাকুরদার ঘুম টা ভেঙ্গে গেল , ঘড়িতে দেখল এখন তো সবে রাত ৩ টা বাজে এত রাতে রুবুল কেন ডাকছে। ঠাকুরদার মন টা কেমন যেন কিন্তু বোধ হচ্ছিল বলেই বাবাকে ঘুম থেকে আর তোলেনি। ঠাকুরদা তিনবার কে?কে?কে? বলে সাড়া দিতেই দেখল কেউ নেই,কারোর কোনো সাড়া নেই। ঠাকুরদা তখনই বুঝল নিশ্চয় কিছু গন্ডগোল আছে  মনে হচ্ছে ।এটা রুবুল না কারণ ও হলে তো সারা দিতো তাহলে কী রুবুলের বেশে অন্য কেউ??
        ঠিক একই ভাবে সুরেশ কাকুর বাড়িতেও রুবুল কাকুর ডাকতে যাওয়ার কথা। সুরেশ কাকুর বাড়িতে রুবুল কাকু রাত ৩ টে তে সুরেশ!! সুরেশ !! বলে ডাকতেই সুরেশ কাকু ঘুম থেকে উঠেই হাতে ছিপ  নিয়ে বেড়িয়ে গেল। ঘড়িতে কটা বাজে সেসব না দেখেই। দুই বন্ধুতে যাচ্ছে রুবুল কাকু কিছু টা আগে আর তার পিছনে সুরেশ কাকু। কিছুটা যাওয়ার পর সুরেশ কাকু হঠাৎ লক্ষ্য করল যে ভোর চারটা নাগাদ তো বিপীনের চায়ের দোকান খুলতে শুরু করে তবে আজ কেন খোলা নেই। এইসময় তো গ্ৰামের রাস্তায় দু একটা লোকও যাতায়াত করে আজ সেটাও নেই মনের মধ্যে এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার চোখ গেল তার বন্ধুর পায়ের দিকে । তারপর সে যা দেখল দেখে তো তার চোখ কপালে উঠে যাওয়ার সমান।দেখল রুবুলের পা এর পাতা গুলো তো শরীরের উল্টো দিকে এ কেমন দৃশ্য। সে হাঁটছে সামনে দিয়ে আর তার পা দুটো শরীরের বিপরীতে।এরকম মানুষ তো সে আগে কখনও দেখেনি  তখন তার মাথায় এলো তবে কী এটা রুবুল নয়  রুবুলের বেশে কোনো অশরীরী আত্মা। তখন সে একবার রুবুল বলে ডাকতেই হঠাৎ এক বিকট শব্দ করে সামনের জন হাওয়া। সুরেশের গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে আর সে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
আমার জীবনের ভয়ানক কিছু গল্প ভূতের

     তারপর দিন সকাল থেকে সবাই সুরেশ কে খোঁজাখুঁজি করছে সবাই কিন্তু তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তখন আমার ঠাকুরদা বলল তাহলে নিশ্চয়  নিশিতে ডেকে নিয়ে গিয়ে কোথাও ছেলে টাকে লুকিয়ে রেখে দিয়েছে। তখন তো বাবারা সবাই শুনে অবাক সকলের গা যেন ভয়ে হিম হয়ে আসছে।
        তারপর জানা গেল গোপাল দের পুরো বাড়িতে নাকি সুরেশ কাকু অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল। গোপাল রা নাকি দেখতে পেয়ে খবর দেয়। সেই দিন থেকেই ঠাকুরদা বাবাকে বলে দিয়েছিলেন যে কখনও রাত ১২ টার পর কেউ ডাক দিলে যেন এক দুবারের ডাকে না যাই। কমপক্ষে ৩ বার ডাক দেওয়ার পর সাড়া দিলে তবে  জানা যায় কারণ তিনবার কে? কে ?কে?বলে সাড়া দিলে  যদি সাড়া দেয় তাহলে সে মানুষ আর তিনবারের ডাকে সাড়া না দিলে তা হলে জানতে হবে যে সে মানুষের বেশে নিশি । নিশিদের নাকি শরীরের উল্টোদিকে পায়ের পাতা থাকে। তারা মানুষের কথা কান পেতে শুনে নিয়ে সেটা সুযোগে ব্যবহার করে। আগে নাকি নিশিদের খুব উপদ্রব ছিল। এখন আর নিশি নাকি দেখা যায়না। এরা এমনকি মানুষ কে মেরে ফেলতেও পারে।
আমার জীবনের ভয়ানক কিছু গল্প ভূতের

Comments