।।ভৌতিক বট।।
শেষ পর্যন্ত সামনের দিকে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম। গাছের নীচে দিয়ে যাওয়ার সময় কে যেন ধাক্কা দিল পিছন থেকে ভীষণ জোরে আর সেই ধাক্কাতে গিয়ে পড়লাম কাদের জন্য বাড়ির বারান্দায় ।ঘেউ ঘেউ করে ছুটে এল দু তিনটে কুকুর। কে? কে? বলতে বলতে বেরিয়ে এল ওই বাড়ির একজন। হৈ হৈ পড়ে গেল গোটা বাড়িতে । আমি জ্ঞান হারানো অবস্থাতেই ছিলাম তখন। মাথায় জল ঢেলে জ্ঞান ফেরানো হয়েছিল আমার। তারপর যা যা ঘটেছিল সবই বললাম তাদের তখন ওই বাড়ির গৃহকর্তা বললেন— রাতের বেলা ও ওই ভুতো বটের তলা দিয়ে কেউ কখনো যায়? যতসব ভূত-পেত্নীর আড্ডা ওখানে। তখন কিছু জন মানুষ ওখানে হারিকেন হাতে নিয়ে গেল । কিন্তু অশরীরী আত্মার কোনো অস্তিত্বই নেই সেখানে। তখন ওদের মুখ থেকে শুনলাম আজ থেকে প্রায় ১২-১৩ বছর আগে একটা বউ ওই গাছে গলায় দড়ি দিয়েছিল। সেই থেকে 'ভুতো বট' বা 'গলায় দড়ি বটতলা' বলে প্রখ্যাত এই বটগাছ। রাতের বেলায় অনেকেই বিপদে পড়েছে । এখনো অলস মুহূর্তে সেই কথা যখন মনে পড়ে তখনই কেমন যেন চমকে উঠি। আমি তারপর সেই বাড়ির লোকেদের কাছে জানতে পারি যে কি ঘটেছিল সেই গাছ তলায়। স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে অভিমান করে নাকি ওই গ্রামের এক গৃহবধূ গলায় দড়ি দিয়েছিল। শাস্তি দিতে চেয়েছিল তার স্বামীকে । কিন্তু প্রতিশোধ নিতে গিয়ে নিজে হারিয়ে যাবে চিরতরে এটা ভাবেনি। অবশ্য যারা আত্মহত্যা করে সুখের মাথায় তারা যদি নিজেদের চিন্তা করার অবকাশ পায় তাহলে কি আর দেশে দেশে আসবো বাতাসে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটত না সৃষ্টি হতো?
তার পরেরদিন সকালবেলায় কোনরকমে কিছুটা সুস্থ হয়ে দিনে মানে আমি বাড়ি ফিরে গেলাম। তারপর থেকে আর কোনদিনও ওই গাছের তলা দিয়ে যাবার শখ বা ইচ্ছা কোনটাই আমার আর কোন দিনও হয়নি।
## ভৌতিক বট( দ্বিতীয় পর্ব)##

Comments