অসমাপ্ত সংসার

।। অসমাপ্ত সংসার ।।


এক বাবা-মায়ের দুই ছেলে ছিল। তার মধ্যে বড় ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। ছোট টাও ভালো খারাপ নয় । যাই হোক বড় ছেলেটি উচ্চমাধ্যমিক পাস করল পাস করার পরেই তার সাথে একটা মেয়ের পরিচয় হলো। তারা একসাথে পড়াশোনা করত । সেই মারফতেই তাদের সাক্ষাৎ হলো। এরপর তারা  একে ওপরের আস্তে আস্তে প্রেমে পরল । তাদের দুজনের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক তৈরি হলো।
Unfinished world

তাদের সম্পর্ক এক বছর যাওয়ার পর এই ছেলেটির হঠাৎ শরীরে অল্প বিস্তর কষ্ট শুরু হতে লাগলো। কিছু দিন পর সে তার বাবা-মাকে জানালো যে তার নাকি শ্বাস কষ্ট হচ্ছে । সেসব শুনে তার বাবা-মা তো তাকে তরিঘরি শহরে নিয়ে এসে ডাক্তার দেখালো।  ডাক্তার বিভিন্ন টেস্ট করার পরে জানালো যে তার নাকি হার্ট ব্লক হয়ে গেছে তার নাকি বেশি জল খাওয়া যাবেনা। তাকে অনেক কিছু রেস্ট্রিকশন মেনে চলতে হবে সেই সব শুনেই তার বাবা-মা তো গভীর চিন্তায় পড়ে গেল। সেই ছেলেটির জেঠুরা শহরে থাকতো তারা  তাদের ছেলেকে নিয়ে জেঠুর বাড়িতে এসে তার চিকিৎসা করতে শুরু করল । তার জেঠুরা তাদের যথেষ্ট সাহায্য করতে লাগল। এইভাবে আস্তে আস্তে আস্তে তার কখনো শরীরটা একটু খারাপ আবার কখনো ভালো এই ভাবেই দিন কাটতে লাগল । তারপর তাকে ব্যাঙ্গালোরে বড় জায়গা তে নিয়ে যাওয়া হলো তার চিকিৎসার জন্য । সেখানে গিয়েও ডাক্তার একই কথা বলল যে তার হার্ট ব্লক হয়ে গেছে। সে নাকি বেশিদিন বাঁচতে পারবে না ‌ কিন্তু সেসব শুনেও তার বাবা-মা কিন্তু হাল ছাড়েনি ছেলের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট টাকা পয়সা খরচ করেছে ।তাদের সাধ্যের বাইরে খরচ করেছে । এইভাবে তার কখনো শরীরটা ভালো আবার কখনো খারাপ এভাবেই দিন কাটছে। এরই মধ্যে সে তার প্রেমিকার সাথে তার বাবা-মায়ের পরিচয় করালো।তার বাবা-মা ও তাতে সম্মতি দিল কারণ তারা তো জানে যে তাদের ছেলে আর বেশিদিন বাঁচবেনা। ডাক্তারে তো জানিয়েই দিয়েছে যে তাদের ছেলে বাঁচার কোন আশা নেই।কিছু মাসের মধ্যেই নাকি সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে। ছেলেটির কিন্তু মনে প্রচন্ড সাহস ছিল যেহেতু তার পরিবারের অবস্থা সেরকম ভাল ছিলনা তাই সে একদিন তার জেঠুদের বাড়ি আসে শহরে এবং সেখানে নাকি সে কিছু কাজের সন্ধান পায় । সেদিন যখন সে গ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসছিল তার বাবা-মা বারবার বলেছে আজকে যেতে হবে না বাবা আজ যেতে হবে না আজ তোমার শরীরটা ভালো নেই কি দরকার যাওয়ার কাজ করার কি দরকার তোমার শরীর খারাপ । কিন্তু ছেলের তো মন মানে না ছেলের  এখন অনেক স্বপ্ন।সে এখন একটা মেয়েকে ভালোবেসেছে তাকে বিয়ে করবে সেই ভাবে চিন্তা ভাবনা করছে তার শরীর খারাপ থাকলেও তার মনের জোর ছিল সেইসব ভেবে সে শহরে এল। তার জেঠিমার কাছে দুপুরে বিরিয়ানি খেয়ে সে কাজের খোঁজে তার জেঠু ছেলের সাথে সাইকেলে করে বেরোল। রাস্তায় সাইকেলে করে যেতে যেতে সে নাকি রাস্তায় সাইকেল থামিয়ে ছিল। সেই দেখে তার জেঠুর ছেলে তাকে বলল কি হয়েছে রে তোর শরীর খারাপ লাগছে? তখন ছেলেটি বলল না না ঠিক আছি আমি ।  সেই বলে সাইকেলের প্যাডেলে আবার পা দিতেই ধপাস করে রাস্তায় পড়ে  গেল তার মুখ দিয়ে রক্ত বেরিয়ে সেন্সলেস হয়ে পড়ল।তখন তার জেঠুর ছেলে তাকে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল নিয়ে যায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে তার দেহে আর প্রাণ ছিলনা। সে তখন অন্য এক জগতে আরোহন করে ফেলেছে। সে আর এই পৃথিবীতে রইলো না সে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল।  সে মারা যাওয়ার পর যখন তার লাশ তার মা-বাবার সামনে নিয়ে যাওয়া হল সেই বাড়িতে তো শোকের ছায়া নেমে এসেছে । এত কম বয়সের জোয়ান তাজা মাএ 22 বছরের ছেলে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল তার বাবা মায়ের কোল খালি করে চলে গেল এর থেকে বড় কষ্ট আর কি হতে পারে। আর হ্যাঁ তার প্রেমিকা এসেছিল তাকে শেষবারের মতো  দেখতে। তার মুখটা দেখতে এসেছিল।সে ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে। পরে নাকি শুনতে পেলাম তারা নাকি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছিল একমাস  আগে।হয়তো তার জন্যই তার এত কাজের চাহিদা ছিল ভেবেছিল বউয়ের সাথে সংসার করবে কিন্তু তার আর সে স্বপ্ন সত্যি হলো না । এভাবে তার স্বপ্নগুলো ধামাচাপা পড়ে গেল । সে চলে গেল এই পৃথিবী ছেড়ে সেদিন যখন তার প্রেমিকা এসেছিল সেই ছেলেটির সব বোনদেরকে বলছিল যে সে নাকি ছেলেটির চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে তার সাথে ফোনে কথা বলেছে সে নাকি তাকে জিজ্ঞেস করেছে যে কি দিয়ে ভাত খেয়েছ? ছেলেটি তার প্রেমিকাকে জানিয়েছে আমি এখন সাইকেল চালাচ্ছি আমি তোমাকে কাজের ওখানে গিয়ে ফোন করছি কিন্তু আর ফোন করতে হলো না।  সেটাই ছিল তাদের শেষ কথা আর কথা হল না মেয়েটির সাথে এই বোলে বোলে লাশের সামনে কান্না করতে লাগলো । কি করবে করার তো কিছু নেই তার যে সময় চলে এসছিল পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার । এভাবে দুটো ভালোবাসার মানুষ আলাদা হয়ে গেল । তাদের সংসার করার স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল। কি দরকার ছিল এই এক বছরের প্রেমের ।আর এই এক মাসের বিয়ের।
Unfinished world



Comments