True Story
🌸।।পাঞ্জাবের মেয়ে হতভাগিনী বেবী ।।🌸কোনো এক সময়ে বেবী নামে এক মেয়ে ছিল তার বাড়ি ছিল পাঞ্জাবে। আমি তখন বেশ ছোটই ছিলাম যখন আমি তাকে দেখি। আজ আমি সেই বেবীর গল্প্ই শোনাবো আপনাদের।।
বেবী ছিল এক পাঞ্জাবি মেয়ে। পাঞ্জাবি মেয়ে যখন তার রুপের আর কীইবা বর্ণনা দেব। টুকটুকে ফর্সা গায়ের রং , বেশ লম্বা ছিপছিপে গড়ন ছিল।সব মিলিয়ে রুপে গুনে পরিপূর্ণ এক মহিয়সী।
আগেকার দিনে তো মেয়েদের তাড়াতাড়িই ধরে বেঁধে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতো। বেবীর সাথেও তার বাড়ির লোকজন তেমনটাই করল। কতই বা বয়স হবে তখন তার খুব বেশি হলে বাড়ো বছর বয়স হবে। অতটুকু বয়সেই তার বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়।
বিয়ের পর স্বামীর সাথে সে মানিয়ে গুছিয়ে নিয়ে সংসার করতে লাগলো । কিন্তু হতভাগিনী বেবির কপালে সুখ যে লেখা ছিল না তাই সে সেই অল্প বয়সেই স্বামীকে হারালো তারপর তাকে শ্বশুরবাড়িতে অনেক নির্যাতনের স্বীকারও হতে হয়েছিল ।ঠিক সেই সময়ে তার ননদায় তাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয় বেবি সেই প্রস্তাব মেনে নিয়ে তার জীবনে বিপদ ডেকে আনল ।সেই লোক বেবিকে বিয়ের নামে প্রতারণা করে তাকে নোংরা জায়গায় বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।বেবি তখন এক অচেনা শহরে কিছুই চেনে না, কিছুই জানে না একা একা কি করবে ভেবেও পায় না।
সেই অসহায় অবস্থায় সে কোন ভাবে সেই নোংরা জায়গা থেকে পালিয়ে আসে এবং রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে বসে কান্না করছে। সেইসময় তাকে এক ভদ্রলোক এসে জিজ্ঞাসা করেন"কী হয়েছে মা তোমার"?। বেবী তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করে এটা কোথায়। সেই ভদ্রলোক বলেন এটা কলকাতা মা। তখন বেবি তার জীবনের দুঃখের কথা সেই ভদ্রলোককে জানান। তিনি খুব কষ্ট পেয়ে বেবিকে বলেন"তোমার কোন চিন্তা নেই মা।তুমি যদি আমাকে বিশ্বাস করো আমি তাহলে তোমাকে একটা ভালো জায়গাতেই নিয়ে যাব"। বেবী তাতেই রাজি হয়ে সেই ভদ্রলোকের সাথে পাড়ি দিল।
সেই ভদ্রলোক তাকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তুললেন এবং মেয়ের মতো করেই কিছুটা রাখলেন। বেবী সেখানে থাকতে শুরু করল এবং তাদের কিছু কাজকর্ম করেও দিত।বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিল বেবী।
কিন্তু আবার ও সে একজনের প্রেমে পড়ে। সেই লোকটি ছিল অন্য আর এক জায়গার লোক। লোকটি ভাড়া থাকতো বেবী দের পাশের পাড়ায়। লোকটি বেবী কে বিয়ে করে সেই ভাড়া বাড়িতেই রেখেছিল। প্রথম প্রথম তাদের বৈবাহিক জীবন ভালোই কাটছিল।
তারপর বেবী মা হল। তার কোল আলো করে দুই যমজ বাচ্চা জন্মগ্রহণ করল। কিন্তু ওই যে বেবীর কপালে সুখ লেখা নেই।জন্মের পরেই বাচ্চা দুটোও মারা যায়। সেই কারণেই তার দ্বিতীয় স্বামী তাকে ছেড়ে দেশে চলে যায়। তারপর বেবি আবার তার পিতা মানে যিনি বেবিকে উদ্ধার করে এনেছিলেন তার বাড়িতে গিয়ে ঠাই নেয়।
প্রত্যেকবার মকর সংক্রান্তি্ মানে ঘুড়ির মেলার দিনে বেবি সেই বাড়ির কিছু ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে এক কবরাস্থানে যেত মেলা দেখাতে ।সেই ছোট্ট বাচ্চাদের মধ্যে আমিও ছিলাম আমিও যেতাম সেখানে প্রত্যেকবার।বেবি কবরগুলোর দিকে আংগুল দেখিয়ে আমাদের বলতো যে ওই দেখ ওখানে আমার দুই ছেলে ঘুমাচ্ছে ।তখন তো ছোট ছিলাম তাই বুঝতে পারতাম না যে কি বলছে কিন্তু বড় হওয়ার পর তা উপলব্ধি করতে পারি যে সেইদিন বেবি ঠিক কি বলতে চাইছিল ঠিক।কত কষ্টে সে সেই কথাটা বলতো আমাদের।।😞
https://m.facebook.com/R-S-Mobile-Point-secondhand-Mobile-104123261175200/?ref=bookmarks





Comments